চাটমোহর (পাবনা) :
পাবনার চাটমোহরে বসতভিটার জমি গোপনে বিক্রি, জবরদখল ও উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাহেদা খাতুন নামে এক নারী। নিজের শেষ সম্বল বসতভিটা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) চাটমোহর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী জাহেদা খাতুন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, চাটমোহর থানার ভাদড়া গ্রামে তাঁর বাড়ি। প্রায় ৪৫ বছর ধরে তিনি ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। তাঁর শাশুড়ি মরহুমা ওরফুন নেছা ছিলেন জমিটির মূল মালিক। জাহেদার অভিযোগ, তাঁর স্বামী মো. সামাদ মণ্ডল তাঁকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের পর শাশুড়ির সম্পত্তির একটি অংশ তাঁর ছেলে ও নাতি মো. জাহিদুল ইসলাম শিমুলের নামে লিখে দেন। শাশুড়ির মৃত্যুর পর অবশিষ্ট জমির মালিকানা উত্তরাধিকারসূত্রে তাঁর ছেলের কাছে আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাহেদা খাতুনের অভিযোগ, তাঁর স্বামী ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর ৬৫২২ নম্বর দলিলমূলে ভাদড়া মৌজার ৮৫ নম্বর খতিয়ানের ১২৪৯ নম্বর হাল দাগের বাড়ি শ্রেণিভুক্ত জমি থেকে ০.০২৫০ একর বা আড়াই শতাংশ জমি নুরজ্জামানের স্ত্রী মোছা. আসমা খাতুনের কাছে বিক্রি করেন। তাঁর দাবি, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে গোপনে ওই জমি বিক্রি করা হয়।
বিষয়টি জানার পর জাহেদা খাতুন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জমিটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন। এমনকি জমি কেনার সময় দেওয়া টাকা ফেরত দিতেও তাঁরা প্রস্তুত ছিলেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, জমি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় এবং অবশিষ্ট জমিও জবরদখলের হুমকি দেওয়া হয়।
বাধ্য হয়ে জাহেদা খাতুন ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমির অবস্থা বজায় রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর হওয়ার আগেই ২০২৩ সালের ২৮ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিপক্ষরা বিরোধপূর্ণ জমিতে দখল প্রতিষ্ঠা ও নির্মাণকাজের উদ্যোগ নেয়। এ ঘটনায় তিনি নিজের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা করছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জাহেদা খাতুন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর বসতভিটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে আদালতে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমি নিয়ে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের বসতভিটা রক্ষা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার আকুতি জানিয়ে জাহেদা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিনের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় তিনি উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তিনি তাঁর ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চান।