বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা)
পাবনা পৌরসভাকে একটি পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক বিশেষ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা পৌরসভা ভবনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রাক এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পৌরসভার এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার পরিকল্পনা রুপকল্পে তুলে ধরা হয়। সভায় ‘পার্টনারশিপ ভ্যালু ট্রায়াঙ্গেল’-এর মাধ্যমে একটি টেকসই মডেল উপস্থাপন করা হয়। এই মডেলে পাবনা পৌরসভা সেবা কর্তৃপক্ষ ও অবকাঠামো নিয়ন্ত্রক হিসেবে, স্কয়ার ফার্মা আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে এবং ব্র্যাক সিস্টেম আর্কিটেক্ট ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।
রূপকল্পে বলা হয়, পাবনা শহরে প্রতিদিন গড়ে ১০৩ টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। বর্তমানে আংশিক সংগ্রহ পদ্ধতি এবং সরাসরি ল্যান্ডফিলে বর্জ্য ফেলার কারণে ড্রেন ও ইছামতি নদীতে ময়লা জমে জলাবদ্ধতা ও মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের প্লাস্টিক সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো না থাকায় পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সভায় আগামী ৬ মাসের একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ‘বর্জ্য সুশৃঙ্খল করা’। এতে শক্তিশালী ও ঢাকাযুক্ত কমিউনিটি বিন রাস্তার মোড়ে মোড়ে টেকসই ডাস্টবিন স্থাপন। বর্জ্য ফেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া। স্কুল ও কাঁচাবাজারগুলোতে প্রচার চালানো ও স্থানীয় মানুষের মাধ্যমে ডাস্টবিনগুলো মনিটর করার কথা বলা হয়।
পাবনা পৌরসভার প্রশাসক মো. মনিরজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বিশু, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ইছামতি নদী এবং পৌরসভার পচ্ছিন্নতা নিয়ে নিরলস কাজ করার ব্যাক্তিত্ব মোস্তাক হোসেন সুইট, পাবনা জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সম্পাদক জহুরুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি বলেন, “পাবনার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি পরিচ্ছন্ন শহর। ব্র্যাক ও স্কয়ারের এই মহতী উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা ইছামতি নদী ও শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে পারব। নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া কোনো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে। এর ফলে রাস্তাঘাট আরও পরিষ্কার হবে, ড্রেনে ময়লা কমবে এবং একটি টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে উঠবে যা পরবর্তী সময়ে সারা দেশে মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। অনুষ্ঠানে পৌরসভা, ব্র্যাক ও স্কয়ার ফার্মার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।