শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অভিনন্দন : আপনার এলাকার উন্নয়ন অনিয়ম, অপরাধ, শিক্ষা শিল্প- সংস্কৃতি , ইতিহাস- ঐহিত্য , অবহেলা-অবিচারসহ প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য টিত্র পাঠান। আমরা যাচাই-বাছাই করে তাহা গুরুত্বসহকারে প্রচার করব।  

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আ.লীগ নেতা রাসেল; পরিবারের জন্য চাইলেন ক্ষমা

রিপোটারের নাম : / ২৫ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে :
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬


পাবনা প্রতিনিধি
৪ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন

পাবনা-৩ এলাকার সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের পুত্র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হাসনাইন রাসেল।

রাসেল ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র।

শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া মহল্লার নিজ বাড়িতে যান রাসেল। এ সময় সেখানে আগে থেকে বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মী সমর্থক স্বজন এলাকাবাসী ভীড় জমায়।

গাড়ি থেকে নামার পর বাড়ির উঠোনে ফ্রিজআপ গাড়িতে রাখা মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখেন রাসেল। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্ত্রী সন্তান ও স্বজনদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। অনেকে তাকে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এরপর পোশাক পরিবর্তন ও অযু করেন রাসেল। সেখান থেকে আবার পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা নামাজ স্থলে পৌঁছান তিনি।

এ সময় গাড়ি থেকে নামার পর উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। কেউ তার হাত ধরে কুশল বিনিময় করেন। ভীড় ঠেলে পুলিশী পাহাড়ায় জানাজা নামাজের মাঠে হাজির হয়ে রাসেল সবার উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

রাসেল বলেন, আজকে যারা আমার মায়ের জানাজায় হাজির হয়েছেন তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে আমার মাকে চেনেন না। তিনি পাটুলিপাড়ার মেয়ে। ছোটবেলা থেকে আমাদের যখন জ্ঞান হয়েছে তখন থেকে দেখে আসছি আমার মা রান্নাঘরের চুলাতে। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চুলায় রান্না করে গেছেন। আমার বিশ্বাস যারা আমাদের বাড়িতে গিয়েছেন তারা আমার মায়ের হাতের রান্না করা ডাল ভাত খান নাই এমন কেউ নাই। আমার মা প্রকৃতপক্ষে একজন গৃহিণী ছিলেন। আমার মা আজ পৃথিবীতে নেই। আজকে এই দিনে ভালোবাসার মানুষ যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন তাদের কাছে আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই। একজন মানুষের ভুল ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। আল্লাহ যেন তার কবরের সওয়াল জবাব কে সহজ করে দেন। আমার ছেলে আছে, আমাদের পরিবারের জন্য সবাই আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন। আর এলাকাবাসী যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন আমাদের পরিবার যদি আপনাদের কাছে কোন ভুল করে থাকে তার জন্য করজরে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনারা মাফ করে দিবেন।

এরপর মায়ের জানাজা নামাজে অংশ নেন রাসেল। জানাজা নামাজের ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার দলীয় নেতাকর্মী আত্মীয়-স্বজন এলাকাবাসী অংশ নেন।

জানাজা নামাজ শেষে তিনি পুলিশি পাহারায় পুলিশের গাড়িতে করে তিনি পার ভাঙ্গুরা কবরস্থানে যান। সেখানে মায়ের কবরে মাটি দিয়ে দোয়ায় অংশ নেন। শেষে পুলিশের গাড়িতে তিনি কারাগারে ফিরে যান।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেলের মা ও পাবনা-৩ আসনের সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান রেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দেড় মাস আগে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

এদিকে এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে সাবেক এমপি পুত্র রাসেল ও তার সহযোগী বশিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ভাঙ্গুড়া থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

সম্প্রতি মায়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন উল্লেখ করে আদালতে জামিনের আবেদন জানান তার আইনজীবী। দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) পাবনা জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক আফতাবুজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন। যথাসময়ে আদালতের জামিনে মুক্তির আদেশ পাবনা জেলা কারাগারে পৌঁছালেও তাকে আর কারামুক্ত করা হয়নি।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভোরে মৃত্যুবরণ করেন রাসেলের মা। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারেই রাসেলকে আদালতে হাজির করে চাটমোহর থানায় সম্প্রতি দায়ের হওয়া অন্য একটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখায় পুলিশ। ফলে একটি মামলায় আদালতের দেওয়া জামিন কার্যকর হওয়ার আগেই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি ফের কারাগারে আটকে পড়েন।

এতে নিজের মায়ের জানাজায় শেষবারের মতো অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে আদালতে থাকা অবস্থায় মায়ের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।পরে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান রাসেল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ