পাবনায় বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল কেড়ে নিলো গৃহবধূর প্রাণ
পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল কেড়ে নিলো রিকশাচালক রেজাউল করিমের স্ত্রী সালমা বেগমের প্রাণ।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাবনা শহরের জালালপুর ররত্নদ্বীপ রিসোর্টের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এসময় মোটরসাইকেলটি উচ্চগতিতে পেছন থেকে এসে সালমা বেগমকে প্রায় ৩০ হাত টেনে হিঁচড়ে নিয়ে একটি পিলারের সাথে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শহিদ।
নিহত সালমা বেগম (৪০) পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোলকাটা গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী।
পাবনা শহরে রিকশা চালানোর সুবাদে তারা সদর উপজেলার জালালপুরের পাশেই গয়েশপুর ইউনিয়নের মাছুমপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রেজাউল রিকশা চালিয়ে ফেরার পর রাতে স্বামী স্ত্রী একসাথে খাওয়া দাওয়া করে রাত ১১ টার পর ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের জালালপুর রত্নদ্বীপ রিসোর্টের সামনে অবস্থিত একটি ফার্ণিচারের দোকানের উচ্ছিষ্ট খড়ি নিতে বের হন। খড়ি নিয়ে ফেরার পথে মহাসড়কের বাম পাশ ধরে রিসোর্টের পাশের পাম্পের সামনে দিয়ে গল্প গল্প করতে করতে হেঁটে যাচ্ছিলেন তারা। এসময় পাবনা বাস টার্মিনালের দিক থেকে মহাসড়ক ধরে আসা উচ্চগতির জিক্সার মোটরসাইকেল এসে রেজাউলের স্ত্রী সালমাকে বাধিয়ে টেনে হিঁচড়ে প্রায় ৩০ হাত দূরে নিয়ে গিয়ে একটি পিলারের সাথে নিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সালমার। এঘটনায় রেজাউল তেমন আহত হয়নি। তবে গুরুতর আহত হয়েছেন চালক আমিনুল ইসলাম (১৯)। তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
সালমার স্বামী রেজাউল বলেন, আমরা এখানে ভাড়া বাসায় থাকি। রান্নার জন্য নিয়মিতই রত্নদ্বীপের সামনের দোকান থেকে উচ্ছিষ্ট খড়ি দুজনে এসে নেই। আজও নিয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে ফেরার পথে ঝড়ের বেগে আসা একটি মোটরসাইকেল আমার স্ত্রীকে আমার থেকে একেবারে কেড়ে নিয়ে গেলো। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, আমি আর কি বলব।
এব্যাপারে মাধপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা এসে দেখি- ঘটনাস্থলেই সালমা বেগম মারা গেছেন। আর ঘটনার পর ওই চালকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে পরে জানানো সম্ভব হবে।