বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অভিনন্দন : আপনার এলাকার উন্নয়ন অনিয়ম, অপরাধ, শিক্ষা শিল্প- সংস্কৃতি , ইতিহাস- ঐহিত্য , অবহেলা-অবিচারসহ প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য টিত্র পাঠান। আমরা যাচাই-বাছাই করে তাহা গুরুত্বসহকারে প্রচার করব।  

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোত : নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

রিপোটারের নাম : / ৭ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে :
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাবনা প্রতিনিধি
পদ্মা নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতের কারণে পাবনার নাজিরগঞ্জ ও রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া নৌরুটে দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে উভয় ঘাটে আটকা পড়ে নদী পারের অপেক্ষায় থাকা বহু পণ্যবাহী যানবাহন। তবে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কারণে অনেক চালক বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ধরেছেন।
স্থানীরা জানান, প্রতিদিন এই রুট দিয়ে গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি ট্রাকসহ বেশ কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন পারাপার হয়। পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী জেলার চালকেরা সময় ও খরচ বাঁচাতে এই পথ ব্যবহার করেন। এটি ব্যবহার করলে স্বাভাবিক দূরত্বের চেয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ বেঁচে যায়। কিন্তু সে সুবিধা মিলছে না গত কয়েকদিন ধরে। এর বিপরীতে অতিরিক্ত ব্যয়ে উচ্চ ঝুঁকির স্যালো ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বা স্পিডবোটে পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা। তবে পার হতে পারছেন না ট্রাক সহ বিভিন্ন যানবাহন। বাধ্য হয়ে বিকল্প রুটে অতিরিক্ত দুরত্বে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে চালক সহ সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু ও ওহাব সহ কয়েজন জানান, ফেরি বন্ধ থাকায় শুরুতে বেশকিছু যানবাহন ঘাট এলাকায় আটকে থাকলেও এখন তারা বাধ্য হয়ে ঘুরে বিকল্প রাস্তা দিয়েই যাচ্ছেন। এতে এই রুট ব্যবহারের ফলে ১০০ কিলোমিটার দুরত্ব কমায় যে ব্যয় ও ভোগান্তি ছিলো না, সেটি এখন তাদের পোহাতে হচ্ছে। আপাতত ঘাটে ট্রাক বা কোনো যানবাহন নেই।
রাজবাড়ী থেকে পরিবার নিয়ে পাবনায় আসা আমিনুল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, ফেরী বন্ধ। বাধ্য হয়ে স্ত্রী ও বাচ্চাকাচ্চাদের নিয়ে ঝুঁকিতেই স্পিডবোটে পার হতে হয়েছে। এতে মাথা প্রতি ১৫০ টাকা করে গুণতে হয়েছে। অথচ ফেরিতে খরচ হতো মাত্র ৩০ টাকা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা যায়, এই রুটে ‘ক্যামেলিয়া’ নামের একটি কে-টাইপ ফেরি চলাচল করছিল। তবে নদীতে প্রবল চাপ ও তীব্র স্রোত তৈরি হওয়ায় ফেরিটি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সোমবার ভোরে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এতে ভোগান্তি বেড়েছে।
মাঝে মাঝেই এই রুটে চলাচল করতে হয় জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, সাধারণত নাজিরগঞ্জ ঘাট থেকে ধাওয়াপাড়া ঘাটে একটি মোটরসাইকেল ও দুজন যাত্রীর ভাড়া নেয়া হয় ২৫০ টাকা। সেখানে ফেরী বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেল বা কোনো যান নেয়া যাচ্ছে না। অসম্ভব ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে গেলেও মাথা প্রতি ৮৫-৯৫ টাকা ভাড়া গুণতে হবে। আবার মোটরসাইকেলের জন্য ১৫০ টাকার মত লাগবে। আর স্পিডবোটে তো এই সুযোগই নেই। এক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে। দ্রুত বড় ফেরী দেয়া বা ফেরী চলাচলে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর ব্যবস্থাপক এম এন আল শিবলী জানান, কে-টাইপ ‘ক্যামেলিয়া’ ফেরিটি মাত্র ৭-৮টি ট্রাক বহন করতে পারে। স্রোতের কারণে বড় ফেরির চাহিদা পাঠানো হলে বিআইডব্লিউটিসি ১৫ থেকে ১৮টি যান বহনে সক্ষম ‘কদম’ নামের একটি ইউটিলিটি ফেরি বরাদ্দ করেছে।
আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের রৌমারীতে থাকা ‘কদম’ ফেরিটি বৃহস্পতিবারের মধ্যে ঘাটে পৌঁছাবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে এই রুটে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে নদীর পানি কমলে পুরনো ফেরিটিও চালু করা হবে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজিক্যাল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শিববার হোসেন জানান, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন ১০-১৫ সেন্টিমিটার পানি বাড়ছে। নাজিরগঞ্জ পয়েন্টের কাছে পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) নদীর মিলনস্থল হওয়ায় দুই নদীর যৌথ প্রবাহের কারণে সেখানে অতিরিক্ত স্রোত ও পানির চাপ সৃষ্টি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ