মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অভিনন্দন : আপনার এলাকার উন্নয়ন অনিয়ম, অপরাধ, শিক্ষা শিল্প- সংস্কৃতি , ইতিহাস- ঐহিত্য , অবহেলা-অবিচারসহ প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য টিত্র পাঠান। আমরা যাচাই-বাছাই করে তাহা গুরুত্বসহকারে প্রচার করব।  

শেকড়ের টানে পাবনায় প্রতিমন্ত্রী পুতুল: বাবার বন্ধুদের সান্নিধ্যে এক আবেগঘন দুপুর

রিপোটারের নাম : / ৬ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে :
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

পাবনা প্রতিনিধি
রাজনীতির মঞ্চে তিনি একজন দৃঢ়চেতা মন্ত্রী, কিন্তু বাবার বাল্যবন্ধুদের সামনে তিনি যেন সেই ছোট্টটি। সরকারি সফরে পাবনায় এসে আজ এক অনন্য আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী ও তুখোড় বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান পটলের সুযোগ্য তনয়া যখন বাবার স্মৃতিধন্য পাবনা প্রেসক্লাবে পা রাখলেন, তখন রাজনীতির প্রটোকল ছাপিয়ে মুখ্য হয়ে উঠল পিতৃস্নেহ আর পারিবারিক ঐতিহ্যের টান।
সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের আয়োজন ছিল। কিন্তু সেখানে উপস্থিত বাবার প্রাণের বন্ধুদের দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি প্রতিমন্ত্রী। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রবি, প্রফেসর শিবজিত নাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম ও অধ্যক্ষ মাহাতাব বিশ্বাসকে দেখামাত্রই তিনি প্রোটোকল ভেঙে ছুটে যান তাদের কাছে। পরম শ্রদ্ধায় তাঁদের ছুঁয়ে সালাম জানান এবং দোয়া চান। বাবার বন্ধুরা যখন স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিচ্ছিলেন পুতুলের মাথায়, তখন এক লহমায় মিলনায়তন জুড়ে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা—সবার চোখে তখন জল।
বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন,
“আমি কর্মক্ষেত্রে যেখানেই যাই, একটাই কথা শুনি— ও আচ্ছা, তুমি পটলের মেয়ে? পটল ভাইয়ের মেয়ে? এই পরিচয়টাই আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রধান শক্তি। আজ বাবার বন্ধুদের হাতের পরশ পেয়ে মনে হচ্ছে আমি বাবাকেই ফিরে পেলাম। সন্তান হিসেবে এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে!”
পাবনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জানান, প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের কৈশোর ও তারুণ্য কেটেছে এই পাবনাতেই। পাবনার সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক এমপি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এডভোকেট আমিনউদ্দিনের ভাতুষ্পুত্র পটল এখানেই ছাত্র রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। সেই পুরোনো স্মৃতিগুলো আজও সজীব হয়ে আছে তাঁর বন্ধুদের মাঝে। প্রতিমন্ত্রী পুতুলের অনুরোধেই তাঁর বাবার বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের প্রতি প্রতিমন্ত্রীর দেখানো বিনয় ও সম্মান উপস্থিত সকলের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
শেকড়ের টান অনুভব করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পাবনা আর নাটোরের লালপুরের মাটির গন্ধ আমার কাছে এক। এখানে আমার পূর্বপুরুষের স্মৃতি মিশে আছে।” তিনি আশ্বাস দেন, লালপুরের মতো পাবনাতেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে। বিশেষ করে হতদরিদ্র মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের দ্বিতীয় ধাপে পাবনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
পাবনা প্রেসক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা ২ আসনের এমপি একেএম সেলিম রেজা হাবিব, প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান,প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ