ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আলোচিত দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, দুই শিশুর মৃত্যু নাপা সিরাপ খেয়ে নয়, পরকীয়ার জেরে বিষ মেশানো মিষ্টি খাইয়ে তাদের মা লিমা বেগম সন্তানদের হত্যা করেছে। এ অভিযোগে লিমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দুই শিশু নিহতের ঘটনায় তাদের পিতা ইসমাইল হোসেন শিশু দুটির মা রীমা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক সফিউল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় আটক লিমাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, লিমা আশুগঞ্জের একটি চালকলে কাজ করেন। আর তার স্বামী কাজ করেন ইটভাটায়। চালকলে কাজ করার সুবাদে আরেক শ্রমিক সফিউল্লার সঙ্গে লিমার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা বিয়ে করারও সিদ্ধান্ত নেয়।
সূত্রটি জানায়, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিষ্টির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দুই শিশু ইয়াছিন ও মোরসালিনকে খাইয়ে হত্যা করে মা লিমা বেগম। মৃত্যুর ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নাপা সিরাপের রিঅ্যাকশন হয়েছে বলে প্রচার করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্যা মোহাম্মদ শাহীন আটক রীমা আক্তারের বরাত দিয়ে জানান, পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে দুই শিশুকে নাপা সিরাপ খাইয়ে হত্যা করে মা লিমা বেগম। তার কথিত প্রেমিকের সঙ্গে বিয়েসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এ ঘটনা পুলিশের কাছে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন লিমা।
তিনি বলেন, ‘পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে সন্তানদের হত্যা করেন লিমা। তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেছেন মো. সফিউল্লাহ। সফিউল্লার সঙ্গে লিমার বিয়েবর্হিভূত সম্পর্ক ছিল। লিমা গেল দুই বছর ধরে একটি চালকলে কাজ করছেন। সেখানে তার সঙ্গে সফিউল্লার পরিচয় হয়। সফিউল্লাহকে ধরতে অভিযান চলছে।
১০ মার্চ আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ইসমাঈল হোসেনের দুই ছেলে সাত বছর বয়সী ইয়াসিন খান ও চার বছর বয়সী মুরসালিন খান নাপা সিরাপ খেয়ে মারা যায় বলে অভিযোগ তোলেন স্বজনরা। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পুরো জেলায় নাপা সিরাপ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি।
পরে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের নাপা সিরাপের একটি ব্যাচ পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নাপা সিরাপের মানে কোনো সমস্যা না পাওয়ার কথা জানান অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ।