মোঃ ফরহাদ হোসেন : বিভিন্ন স্কুল,কলেজ, কারিগরি ও কারিগরি ও মাদরাসায় প্রক্রিয়াধীন থাকা গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক নিয়োগ আগের নিয়মে অর্থাৎ পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে শেষ করার দাবি জানিয়েছেন নিয়োগ প্রত্যাশীদের একাংশ। এ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
বুধবার ( ২ মার্চ) এ দাবি আদায়ে দিনব্যাপি ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে প্রার্থীরা। গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান চাকরি প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
চাকরি প্রত্যাশীরা বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে জুলাই থেকে সারাদেশের কারিগরি ও মাদরাসায় নবসৃষ্ট গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মৌখিক নির্দেশনায় দীর্ঘদিন তা আটকে রাখা হয়। পরে, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ জুলাই মাসে ওই পদ দুটিকে শিক্ষক মর্যাদা দিয়ে গ্রন্থাগার প্রভাষক এবং সহকারী শিক্ষক গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান নামকরণ করে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়, তাতে এই দুটি পদের নিয়োগের দায়িত্ব বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কতৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) দেয়া হয়। আমরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। তবে আমরা যারা আগের নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘদিন যাবত নিয়োগের প্রতীক্ষায় ছিলাম এ আদেশের ফলে আমাদের অধিকার হরণ করা হয়েছে। এ আদেশের জন্য বিভিন্ন কারিগরি ও মাদ্রাসায় আবেদন করা হাজার-হাজার চাকরি প্রত্যাশী ক্ষতি ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া চাকরি প্রত্যাশীরা বলেন, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে জারি হওয়া কারিগরি ও মাদ্রাসায় এমপিও নীতিমালা ও ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জারি হওয়া মাদরাসার সংশোধিত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই থেকে আমরা বিভিন্ন দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসায় ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি থেকে কারিগরি কলেজে গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে বিভিন্ন পত্রিকার প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যাংক ড্রাফট-পোস্টাল অর্ডারসহ আবেদন করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় কারিগরি ও মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি মনোনয়ন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। আমারা নিয়োগ প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু গত বছর জুলাই মাসে নিয়োগের দায়িত্ব এনটিআরসিএকে দেয়া হয়। এখন এ পদগুলোতে নিয়োগ পেতে আমাদের নিবন্ধিত হতে হবে যা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
চাকরি প্রত্যাশীরা আরও বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রক্রিয়াধীন নিয়োগগুলো আগের নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করার দাবিতে আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক। আমরা অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি এবং হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সেইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা যারা আবেদন করেছি তারা আগেও এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছি। তাঁরা বিভিন্ন স্কুল,কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসায় প্রক্রিয়াধীন থাকা গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক নিয়োগ আগের নিয়মে অর্থাৎ পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে শেষ করার দাবি জানান।
সংগঠনের সভাপতি খান সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন আগে গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে আবেদন করার পর নিয়োগের জন্য মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ডিজির প্রতিনিধি দেয়নি। এখন শিক্ষক নিবন্ধন প্রয়োজন বলে বিধান করা হয়েছে। কিন্তু আমরা আবেদন করে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় আছি। সরকার আমাদের বিষয়ে কিছুই ভাবছে না। আমরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অবস্থান করবো। দাবি আদায় না হলে পরে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমরা দাবি আদায়ে অনশনের জন্যও প্রস্তুত আছি।
অবস্থান কর্মসূচিতে সংগঠনের মহাসচিব ফজলুল হক, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অলিউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সালাম খান রিপন,কারিগরি চাকরি প্রত্যাশী কার্ত্তিক আচার্য্য, মোঃ নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন স্কুল,কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসায় গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে আবেদন করা চাকরি প্রত্যাশীরা অংশগ্রহণ করেন।