বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অভিনন্দন : আপনার এলাকার উন্নয়ন অনিয়ম, অপরাধ, শিক্ষা শিল্প- সংস্কৃতি , ইতিহাস- ঐহিত্য , অবহেলা-অবিচারসহ প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য টিত্র পাঠান। আমরা যাচাই-বাছাই করে তাহা গুরুত্বসহকারে প্রচার করব।  

অযত্ন অবহেলায় পরে আছে পাবনা রেলস্টেশন বাড়ছে চুরি ও মাদক সেবিদের আড্ডা

রিপোটারের নাম : / ২২ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে :
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

পাবনা প্রতিনিধি
অযত্ম আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে পাবনা রেল স্টেশনের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। পাশাপাশি মাদক সেবনের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে মাদক সেবিদের তৎপরতা। প্রতিকার না পেয়ে নিরুপায় স্টেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাবনা রেলস্টেশনটিতে ঢালার চর এক্সপ্রেস নামে চলে একটি মাত্র লোকাল ট্রেন। স্টেশনটিতে একটি মাত্র ট্রেন চলাচল করায় বেশিরভাগ সময় থাকে কোলাহল মুক্ত সুনসন নীরবতা। সেই সাথে নেই কোন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি কোন দাপ্তরিক কাজ, তাই রেলওয়ে স্টেশনের কক্ষ ও ওয়েটিং রুমসহ পুরো ভবন এখন পরিত্যক্ত। পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে জনবল না থাকায় মাদকসেবীদের কাছে পরিণত হয়েছে নিরাপদ মাদক সেবনের আশ্রস্থল। এগুলো ঘিরে বাড়ছে নানান অপরাধ, দিন দিন নষ্ট ও চুরি হচ্ছে রেলের মূল্যবান সম্পদ। অরক্ষিত এসব পরিত্যক্ত ভবন ও রেলস্টেশন থেকে লোহা কেটে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চোরের দল। 

স্থানীয়রদের অভিযোগ, রাত বা দিন সবসময় স্টেশনের কক্ষে বসে মাদক সেবীদের আড্ডা। পাশাপাশি চলে অসামাজিক কাজ। তারা বলেন, রেলস্টেশনটিতে সারাদিনে চলে একটি মাত্র ট্রেন। যার ফলে স্টেশনগুলো বেশিরভাগ সময় থাকে ফাঁকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আসতে শুরু করে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ে চোর, ছিনতাইকারী সহ মাদকাসক্তদের তৎপরতা। এসব মিলিয়ে নিরাপত্তা হীনতায় ভোগে স্থানীয়রা সহ ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণের প্রায় আট বছরেই পরিত্যাক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে পাবনা রেলস্টেশনের অফিস ও ওয়েটিং রুম। দুর্বৃত্তরা ভেঙে নিয়ে গেছে দরজা, জানালা, টিউবওয়েল লাইট, ফ্যানসহ মূল্যবান সামগ্রী। পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে রেল স্টাফ কোয়ার্টার সহ রেলের অন্যান্য ভবনগুলো।

স্টেশনের দায়িত্বে থাকা স্টেশন মাস্টারের সহকারী সোহাগ আলী জানান, বর্তমান এই স্টেশননে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্ব আছে ৩ জন। এছাড়া আরএনবিতে আছে ৩ জন, এরমধ্যে ১ জন হাবিলদার ২ জন সিপাহী। এর মধ্যে একজন সিপাহী দায়িত্ব আছে ঢালার চর স্টেশনে। 

কথা হয় লস্করপুরের স্থানীয় বাসিন্দা আজহার আলীর সঙ্গে তিনি জানান, স্টেশনটি এখন বিনোদন পার্কে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্টেশনে বসে সময় কাটায় স্কুল কলেজের উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা। কিছু বললেই চরাও হয়ে মারতে আসে তারা। তিনি জানান এছাড়াও, সন্ধ্যা নামলেই দেখা যায় মাদকসেবিদের আড্ডা। এতে করে চড়ম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তারা।

একই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা ও শফিকুল জানান, স্টেশনটি চালুর পর থেকে ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচলের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়াও স্টেশনটিতে নেই পর্যাপ্ত জনবল। তাই দ্রুত ট্রেন চালু সহ ও রেলের সম্পদ দেখভালের জন্য জনবল বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মারুফ ও তরিকুল ইসলাম জানান, শুরুতে স্টেশনে টিউবয়েল, সাবমারসিবল থাকলেও দিনে দিনে এখন তা চুরি হয়ে গেছে। এছাড়াও তারা জানান, স্টেশনের ফ্লাগ লাইট, গ্যাস সরবরাহের পাইপ, সিমানা প্রাচীর সহ লোহার গ্রীল, জানালার গ্লাসগুলোও দূবৃত্তরা এখন সব ভেঙে ফেলেছে।

আব্দুল মান্নান, মোরাদ হোসেন জানান, স্টেশনে আগে অনেক জিনিসপত্র ছিল কিন্তু দেখভালের অভাবে সেগুলো এখন নষ্ট বা চুরি হয়ে যাচ্ছে। তারা জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এই স্টেশনটি এখন নতুন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। তাই এ সংকট নিরসনে দ্রুত রেল কতৃপক্ষের  হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এবিষয়ে পাবনার পাকশী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিব কায়সার বলেন, ঐতিহ্য ও নিরাপত্তা রক্ষা করার দায়িত্ব সেই এলাকার মানুষের। এটা বাহিরের মানুষ যতই চেষ্টা করুক তারা কিন্তু পেরে উঠবে না। তাই এলাকার সকলকে স্বতস্ফুর্তভাবে রেলসম্পদ রক্ষায় কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, যখন ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে তখন নিরাপত্তা কর্মীও বাড়বে এবং অপারেশন করার জন্য তখন ম্যানপাওয়ারও বাড়বে। এবং সেখানে আরও বেশি এ্যাক্টিভিটি হবে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ