তাড়াশ প্রতিনিধি।।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় মোঃ জুয়েল রানা (১৬) নামের এক যুবককে গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
রবিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর গ্রামে রায়হানের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে আজ (১ মে) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
নির্যাতনের শিকার জুয়েল রানা নওখাদা গ্রামের মোঃ হাসিনুর রহমানের ছেলে। নির্যাতনের পর তাকে চোর সাজিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন ইউপি সদস্য ও তার লোকজন।
নির্যাতনে অভিযুক্তরা হলেন, স্থানীয় ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ সুজন সরদার, পিতা মোঃ মন্টু সরদার, মোঃ মাজেদুল, পিতা মোঃ মৃত আল মাহমুদ, মোঃ শিপন হোসেনসহ আরো অনেকেই ।
নির্যাতনের শিকার জুয়েলের বাবা বলেন, তিন মাস ধরে আমার ছেলে জুয়েলের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে ইউপি সদস্য মোঃ সুজন সরদার। গতকাল রাতে আমার বাড়িতে এসে চাঁদা দাবি করেন এতে আমার ছেলে জুয়েল চাঁদা দিতে অস্বীকার করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজন সরদারে নির্দেশে আমার ছেলে জুয়েলকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার পায়ে দড়ি বেঁধে পা উপরের দিকে তুলে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা মারধর করা হয় ঈশ্বরপুর গ্রামে রায়হানের চায়ের দোকানের সামনে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে আমার ছেলের জিহ্বা বের হয়ে এলে তারা মারধর বন্ধ করে। আমরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ঘটনাটি জানিয়েছি। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবি করছি।
সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, ওই যুবককে মারধরের একটি ভিডিও দেখেছি। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি ইউপি সদস্য মোঃ সুজন সরদারের।
অভিযুক্ত সগুনা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ সুজন সরদার মারধরের কথা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে। রিপোর্ট না করার জন্য সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, কোর্টে মামলা হয়েছে বিষয়টি আমরা শুনেছি। ঘটনা জেনে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।