প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যময় উদ্ভিদ সূর্যমুখী। এ ফুলের নান্দনিক সৌন্দর্য আকৃষ্ট করে যে কাউকে। এই ফুলকে দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিশাল আকারের হলুদ গালিচা বিছিয়ে রেখেছে মাঠ জুড়ে।
সূর্যমুখী হাসছে, আর তার হাসিতে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ রূপ সাজে। সূর্যমুখী শুধু ফুল নয়, এটি একদিকে যেমন সৌন্দর্য্য অন্যদিকে এটি একটি উৎকৃষ্ট মানের তেলবীজ ফল। ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে এই ফলসটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সরেজমিনে পাবনার টেবুনিয়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের ডাল ও তৈলবীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবছর ন্যায় এবছরেও ৩ একর জমিতে বারি-৩ জাতের সূর্যমুখী উৎপাদন করেছে বিএডিসি। মূলত বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চাষ হলেও স্থানীয়দের কাছে এখন এই মাঠ পরিণত হয়েছে এক নতুন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে। বিস্তীর্ণ সবুজের মাঠে হলুদের আভার সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হচ্ছে দর্শনার্থীরা। যার কারণে এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিএডিসির ডাল ও তৈল পক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র প্রতিনিয়ত ভীর করছে প্রকৃতি-প্রেমীরা। এই সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন তারা।
পাবনা শহর থেকে ঘুরতে আসা রেবেকা সুলতানা জানান, প্রতি বছরই এই খামারে সূর্যমুখির আবাদ হয়ে থাকে, তবে ফুল দেখতে এই প্রথম পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে আসছি। তিনি জানান, পাবনায় শিশু বাচ্চা নিয়ে ঘুরার মত তেমন কোন পরিবেশ নেই, তবে এখানে একসাথে এত ফুল দেখতে পেরে ও পরিবার নিয়ে ঘুরতে পেরে অনেক ভালো লাগছে বলে জানান তিনি।
শহর থেকে ঘুরতে আসা সুমাইয়া আফরিন জানান, পাবনা শহরে ঘুরেবেড়ানোর মত তেমন কোন জায়গা নেই, তাই নিরমল প্রকৃতির মাঝে এমন সুন্দর ফুল দেখতে এখানে ছুটে এসেছেন তিনি।
সূর্যমুখী ক্ষেতে ঘুরতে আসা সোহাগ, আলামিন, হারুন জানান, সবার মত আমরাও হলুদ ফুলের সমারোহ দেখতে এখানে ছুটে এসেছি। এবং এখানে এসে এত ফুল দেখে আমাদের অনেক ভালো লেগেছে। তারা বলেন, শীতের বিকেলে হলুদ ফুলের সৌন্দর্য যেন আরও দ্বিগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। মনকে প্রশান্তি দিতেই এখানে এসেছেন বলে জানান তারা।
বিএডিসি সুত্রে জানা যায়, শুধু ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্য কৃষকদের মাঝে ভালো মানের বীজ তুলে দিতেই এই সূর্যমুখীর আবাদ করা হয়ে থাকে বলে জানান তারা। সুত্র জানায়, তবে এটি তৈল বীজ হলেও এ ফুলের সৌন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ করে। যার কারণে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছোট-বড় নানা বয়সের মানুষ ছুটে আসেন এই সূর্যমুখী ক্ষেতে। তারা বলেন, দুপুর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেকে পরিবার বা বন্ধু বান্ধব নিয়ে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে ছুটে আসে তারা। সুত্র জানায়, তবে সৌন্দর্যের মাঝে নিজের স্মৃতি ধরে রাখতে হাতের স্মার্ট ফোন দিয়ে ছবি তুলতে অনেকে অসাবধান বসত ক্ষেতের মধ্যে ঢুকে গাছ বা ফুল নষ্ট করে ফেলে। যার ফলে এখানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এবং ফুল ও গাছ দেখভালের জন্য বিশেষ কেয়ারটেকার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে পাবনার ডাল ও তৈল বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, যেহেতু আমাদের দেশে তৈল জাতীয় ফসলের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে এর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকারি উদ্যোগে এবছরও এ ফসলের চাষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষক পর্যায়ে এর চাষাবাদ বাড়লে দেশে অনেকটা তেলের চাহিদা পূরণ হবে। তিনি জানান, এবছর খামার থেকে প্রায় ১২০০ কেজি বীজ উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এতে আগামী বছর কৃষক পর্যায়ে প্রায় ২৪০ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা যাবে বলে মনে করেন এই উপ-পরিচালক।
পাবনা কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণীক বলেন, সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এ ফসল আবাদে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং এর বিঘাপ্রতি উৎপাদন হয় ০৮ থেকে ১০ মণ। তবে তিনি জানান, এফসল পরিশোধনের জন্য পাবনাতে কোন ওয়েল মিল নেই, যার কারণে এটি পাবনার কিছু জায়গায় কৃষক তার পরিবারে তেলের চাহিদা মিটাতে আবাদ করলেও বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ কম হয়। তবে পাবনায় সূর্যমুখী পরিশোধনে মিল তৈরি হলে এ জেলায় সূর্যমুখীর বাণিজ্যিক ভিত্তিক চাষাবাদ বাড়বে বলে জানান তিনি।