বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এই কার্যক্রম আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। নিবন্ধন কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। যাদের জন্ম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দেশব্যাপী এ কার্যক্রমে অংশ নেবেন নির্বাচন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও মাঠ কর্মকর্তারা। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
হালনাগাদ কার্যক্রমে ল্যাপটপ, স্ক্যানার, ব্যাগসহ অন্যান্য উপকরণ বা সরঞ্জাম দিয়ে ইসিকে সহায়তা করছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপি। আজ রোববার সকাল ৯টায় সরঞ্জাম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে অংশ নিতে ৬৬ হাজার লোকবল প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।এ ছাড়া উপজেলা অথবা থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ, মৃত ভোটারের নাম বাদ ও নতুন ভোটারের তথ্য সফটওয়্যারের সাহায্যে ডেটা এন্ট্রি ও ডেটা আপলোড করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত।
ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিগত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যারা বাদ পড়েছিলেন, তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভোটার তালিকা থেকে মৃতদের বাদ দেওয়া হবে। ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি নতুন ভোটারদের তালিকায় যুক্ত করা হবে। এরপর দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ওই বছরের ২ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা করবে ইসি।সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৭ ও নারী ভোটার ৫ কোটি ৯৭ লাখ ৪ হাজার ৬৪১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯৩২ জন।
আগে থেকেই ইসির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করাই বর্তমান কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। ভোটার হওয়ার যোগ্য, বিশেষ করে নারী ও তরুণ প্রজন্মের কেউ যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। তথ্য গোপন করে একাধিক স্থানে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করাকে অপরাধ হিসেবে ধরা হবে। কমিশন মনে করে, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে গোপনে ভোটার হওয়া সম্ভব নয়।