পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় মাত্র ৫ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে মেরে মুখ ও পিঠে কালশিটে দাগ ফেলার অভিযোগ উঠেছে কোচিং শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নেশাগ্রস্থ অবস্থায় শিশুদের ক্লাস নিতে এসে ওই শিশুকে কিল ও থাপ্পড়ে প্রহার করেন কোচিং শিক্ষক যোসেফ পি গোমেজ। পরে ভয়ে শিশুটি মানসিক ও শারিরীকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে পাবনা শহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হলি চাইল্ড স্কুল ভবনের হাতেখড়ি কোচিং সেন্টারে এঘটনা ঘটে। এঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভূক্তভোগী শিশু শহরের দিলালপুর এলাকার জুবলী ট্যাংকপাড়ার আমিনুল হকের ছেলে সাদ ইবনে আমিন (৫)। তিনি শহরের নর্থ পয়েন্ট স্কুলের প্লে শ্রেণির ছাত্র। অন্যদিকে অভিযুক্ত যোসেফ পি গোমেজ (৫০) হাতেখড়ি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক। ওই কোচিং সেন্টার ও স্কুলের প্রধান তার স্ত্রী ইলোরা লেয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার পর শিশু শিক্ষার্থী সাদ ইবনে আমিনকে হাতেখড়ি কোচিং সেন্টারে পড়াতে নিয়ে যান মা মির্জা আফসানা। এসময় নেশাগ্রস্থ অবস্থায় তাদের ক্লাস নিচ্ছিলেন কোচিং প্রধানের স্বামী যোসেফ পি গোমেজ। ক্লাস নেবার একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে ক্লাসসরুমে ক্ষিপ্ত হয়ে শিশু শিক্ষার্থী সাদ ইবনে আমিনের বাম গালে কষে বেশ কয়েকটি চড় দেন। এসময় শিশুটি কান্না করতে করতে ভয়ে বেঞ্চ থেকে উঠে যেতে চাইলে অত্যন্ত ক্ষিপ্রতা ও ভয়ানকভাবে তার হাত চেপে ধরে বেঞ্চে বসতে বাধ্য করে। এসময় শিশুটির পিঠে কিলও দেন। এঘটনায় শিশুটি চিৎকার করলে ওয়েটিং রুম থেকে মা মির্জা আফসানা এসে তাকে উদ্ধার করে। এঘটনায় শিশুটি মুখে ফ্যানা তুলে তৎক্ষণাৎ মানসিক ও শারিরীকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। এখনো মাঝে মাঝে বমি করছেন ভূক্তভোগী শিশু। এদিকে একমাত্র ছেলের এমন অবস্থা দেখে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন মা মির্জা আফসানা।
এব্যাপারে ভূক্তভোগী শিশুর বোন সুমাইয়া খন্দকার বলেন, হঠাৎ আমার ভাইয়ের কান্নার আওয়াজে মা ক্লাস রুমে ঢুকে যান। তখন ওই শিক্ষকের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে মায়ের সাথেও উন্মাদের মত আচরণ করেন। বলেন, মেরেছি তো কি হয়েছে? গাল এগিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, নেন তাহলে আমাকেও মারেন। এতোবড় একটা অন্যায় করে এমন উদ্ভট আচরণও তিনি করেছেন।
এঘটনাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই জানিয়ে সুমাইয়া খন্দকার বলেন, যেখানে স্কুলে বাচ্চাদের গায়ে হাত তোলা তো দুরে থাক উচ্চস্বরে ধমক দেয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি একটি শিশুকে যেভাবে মেরেছেন অবশ্যই তার বিচার হতে হবে। এরকম একজন মানুষ কিভাবে শিক্ষক হন? কোচিং কর্তৃপক্ষকেও এর দায় নিতে হবে।
অভিযুক্ত শিক্ষক নেশাগ্রস্থ ছিলেন না জানিয়ে কোচিং প্রধান ইলোরা লেয়া বলেন, বাচ্চাটি লিখতে চাচ্ছিলো না। একারণে ধৈর্য্যহারা হয়ে বাচ্চাটিকে একটি চড় দেন বলে ওই শিক্ষক জানিয়েছেন। এক বা একাধিক চড়ই হোক সেটি তার দেয়া উচিত হয়নি। এটি অন্যায় হয়েছে। আমরা তার দায় মেনে নিয়ে বাচ্চার পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছি। ওই শিক্ষককে স্থায়ীভাবে কোচিং থেকে বহিষ্কারও করেছি। ভব্যিষতে এরকম ঘটনা যেনো না ঘটে সেক্ষেত্রেও আমরা আরো সতর্ক থাকবো।
এব্যাপারে পাবনা সদর থানার ওসি আব্দুস সালাম বলেন, এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছিলো। তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ করে জানাতে চেয়েছেন। ভূক্তভোগীর পরিবারের মতামত পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।