পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন হাটগুলোতে মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে মূলকাটা পেঁয়াজের দাম। আসন্ন রমজান উপলক্ষে হঠাৎ পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (১৬ ফেব্রয়ারি) সকালে জেলার পেঁয়াজের বড় হাট পুষ্পপাড়া ও চিনাখড়াহাটে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের কাছ থেকে মণপ্রতি ১৭’শ থেকে শুরু করে ১৮-১৯’শ টাকা মণে পেঁয়াজ কিনছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে কিছুটা কমছে মূলকাটা পেয়াজের আমদানি এবং সামনে রমজান উপলক্ষে বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে তাদের।
সরেজমিনে পুষ্পপাড়া ও চিনাখড়া হাটে গিয়ে কথা হয় সুজানগরের কৃষক আনোয়ারের সঙ্গে তিনি জানান, বীজ বপন, কীটনাশক ও মুজুরী খরচ সহ এক বিঘা জমিতে আবাদ খরচ হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। সে হিসেবে দুই হাজার ২৫’শ টাকা মণপ্রতি পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারলে সব খরচ বাদ দিয়ে কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন বলে জানান তারা।
একই এলাকার কৃষক সারোয়ার জানান, গত সপ্তাহে মণপ্রতি পেঁয়াজের দাম ছিল ১৪’শ থেকে ১৬’শ টাকা। এ সপ্তাহে মণপ্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে ১৭’শ থেকে ১৯’শ টাকা। বাজারে ভালো চাহিদা ও দাম পাওয়ায় অনেকটা খুশি হয়েছেন তারা।
কথা হয় সাঁথিয়া কুনাবাড়ী এলাকার কৃষক আব্দুল বাড়ীর সঙ্গে তিনি জানান, এ বছর তিনবিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন তিনি। সার, কীটনাশক খরচ দিয়ে এ বছর বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে তার ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। তিনি জানান, আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে বিঘাপ্রতি পেঁয়াজের ফলন হয় ৬০ থেকে ৭০ মণ। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফলন ভালো হলেও সময়মত সঠিক দাম না পাওয়ায় অনেকটা ক্ষতির সম্মুখীন হন তারা। তিনি বলেন, এছাড়াও ৪০ কেজিতে মণ হওয়ার কথা থাকলেও ৪৩ কেজিতে ১মণ হিসেবে পেঁয়াজ কিনছেন ব্যবসায়ীরা। এতে করে আর্থিকভাবে অনেকটা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
কথা হয় চিনাখড়া হাটের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মুন্নু, পুষ্পপাড়া হাটের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আলম ও
আবুল কালামের সঙ্গে তারা জানান, প্রায় ২ মাস হলো উঠতে শুরু করেছে মূলকাটা পেঁয়াজ, তাই এই সপ্তাহে হাটে পেঁয়াজের আমদানি অনেকটা কম হয়েছে। তারা আরও জানান, একে-তো আমদানি কম তারপরে সামনে আবার রমজান তাই হঠাৎ পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে মূলকাটা পেঁয়াজের দাম। তাদের কাছে ৪৩ কেজিতে ১মণ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, কৃষকরা ২মণের পাটের বস্তাতে করে পেঁয়াজ নিয়ে আসেন হাটে, এতে করে তাদের বস্তাতে ধূলো বালি ও বস্তার ওজন মিলে এক কেজি ওজন বৃদ্ধি পায়। তাই তাদের কাছ থেকে ২কেজি পেঁয়াজ বেশি নেওয়া হয় বলে জানান তারা।
কথা হয় পাবনা বড় বাজারের সবজি ব্যবসায়ী রিপনের সঙ্গে তিনি জানান, গত সপ্তাহের চাইতে এ সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। তিনি জানান, গতসপ্তাহে ১কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তারা। তিনি বলেন, পেঁয়াজ ও আলুর দাম স্বাভাবিক হলেও কিছুটা বেড়েছে বেগুন, লেবু সহ অন্যান্য সবজির দাম। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমানে মৌসুম না হওয়ায় বাজারে সবজির আমদানি অনেকটাই কম। এবং সামনে রমজান মাস হওয়ায় বেড়েছে চাহিদা। আমদানি কম চাহিদা বাড়ায় সবজির দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।
বাজার করতে আসা ক্রেতা বরকাতুল্লাহ সহ বেশ কয়েকজন জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে হঠাৎই বৃদ্ধি পেয়েছে বিভিন্ন সবজির দাম। এর পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি খেজুর ও লেবুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তারা।
এবিষয়ে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় এ বছর মূলকাটা পেঁয়াজের আবাদ ভালো হয়েছে। এবং বাজারে ভালো চাহিদা ও দাম থাকায় কৃষক লাভবানও হচ্ছে। তিনি জানান, তবে কৃষকেরা আমাদের কাছে অভিযোগ করছে ব্যবসায়ীরা না-কি তাদের কাছ থেকে মণপ্রতি ২-৩ কেজি পেঁয়াজ বেশি নিচ্ছে। তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। এবং ভোক্তা অধিকার কেও জানিয়েছি। এবং এবিষয়ে ভোক্তা অধিকার বাজার মনিটরিংও করছে। তিনি বলেন, এ বছর সময়মত কৃষক সার-বীজ পাওয়ায় মূলকাটা পেঁয়াজের আবাদ অনেক ভালো হয়েছে। এ বছর বাজারে পেঁয়াজের কোন রকম ঘাটতি হবে না বলে জানান তিনি।
পাবনা জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান রনি বলেন, রমজান উপলক্ষে কোন অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন কোন সিন্ডিকেট না করতে পারে এবং ভোক্তাদের সঙ্গে যেন কোন ধরণের প্রতারণা না করতে পারে। এজন্য আমরা জেলার বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। সেই সাথে আমাদের কাছে কৃষকরা
অভিযোগ করছে, তাদের কাছ থেকে না-কি ব্যবসায়ীরা মণপ্রতি দুই থেকে তিন কেজি পেঁয়াজ বেশি নিচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেছি এবং দুই এক জন কে শাস্তির আওতায় নিয়ে এসেছি। পাশাপাশি প্রচারণার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদেরকে সর্তকও করছি।