শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটার উৎসব। কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় দ্রুত ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। কেউ ধান কাটছেন, কেউবা ধান নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, উঠোনে চলছে ধান মাড়াইয়ের মহাযজ্ঞ ।
অন্যদিকে, ফসলের মাঠে ও বাড়ির উঠোনে চলছে ধান মাড়াই। কৃষকের দম ফেলার ফুসরত নেই যেন। তবে, এবছর ধানের ভাল ফলন পেয়ে খুশি কৃষক। ঝড়-বৃষ্টির আগেই ধান কাটা শেষ করতে না পারলে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
চাটমোহরের বুক জুড়ে সোনালী ধানের সমারোহ দোলা দিচ্ছে কৃষকের মনে। কিন্তু আকাশের কালো মেঘ, যেকোনো সময় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে তাদের কপালে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ধান কেটে বাড়ি নেয়া ও মাড়াই করে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। দম ফেলার সময় নেই কারো। অনেকে স্থানে মাঠেই চলছে ধান মাড়াই।
শনিবার সকালে চাটমোহর উপজেলার বড় বেলাই গ্রামের ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকদের একদল ধান কাটায় ব্যস্ত। আরেকদল সেই ধানা মাথায় করে বাড়ি নিচ্ছেন। আবার অনেক কৃষক মাঠের পাশেই ধান মাড়াই করে বস্তায় ভরতে ব্যস্ত।
বড় বেলাই গ্রামের কৃষক রায়হান আলী ও আঃ আলীম বলেন, অকাল বন্যা বা কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির হাত থেকে ধান রক্ষায় আগেভাগেই ধান কাটা শুরু করেছি। গতবছর এই সময় অকাল বন্যায় ধান ডুবে অনেক ক্ষতি হয়েছিল। যদি এবার ধান কাটার আগেই তেমন হয় তাহলে কৃষকরা শেষ হয়ে যাবে।
আরেক কৃষক মানিক মিয়া বলেন, শুনতেছি আগামী কাল থেকে ঘুর্নিঝড় মোখা শুরু হবে, শিলাবৃষ্টি হতে পারে। প্রায় প্রতিদিন আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা যায়। কখন না জানি ঝড়, বৃষ্টিতে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ধান কেটে ঘরে তুলতে চাচ্ছি।
কৃষক মানিক মিয়া বলেন, শুনতেছি আগামী কাল থেকে ঘুর্নিঝড় মোখা শুরু হবে, শিলাবৃষ্টি হতে পারে’…
কয়েকজন কৃষক জানান, এবার ফলন খুব ভাল হয়েছে। বিঘায় ২০-২৬ মণ হারে ধান হয়েছে। বাজারে দামও মোটামুটি ভাল আছে। খরচ বাদে কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারবো।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ জানান, ঝড়-শিলাবৃষ্টির আশংকা কৃষক দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলছেন। বড় ধরনের ঝড় বা শিলাবৃষ্টি না হলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনসহ ধানের ন্যায্যমূল্য পাবেন কৃষকরা।
পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, এবার লক্ষ্যমাত্রার বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলনও বেশ ভাল। কিছুদিন হলো ধান কাটা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭ ভাগ ধান কর্তন হয়েছে। ঝড়, শিলাবৃষ্টির হাত থেকে রক্ষায় শতকরা আশি ভাগ ধান পাকলেই দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর পাবনা জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫৫ হাজার ৫২৫ হেক্টর। আবাদ হয় ৫৬ হাজার ২০৭ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪০০ মেট্টিকটন।