পাবনার চাটমোহরে শুরু হয়েছে মিষ্টি মরিচ খ্যাত সবজি ক্যাপসিকাম চাষ। উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরুণ উদ্যোক্তা রাশেদুল ইসলাম বকুল তার এলাকায় ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেছেন। অনুকূল আবহাওয়া, উপযুক্ত মাটি এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় বেশ কয়েকজন কৃষক এ সবজিটির চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
ক্যাপসিকামে ভিটামিন এ এবং সি প্রচুর পরিমাণে থাকে। এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এতে ফাইবার, আয়রন এবং অন্যান্য খনিজ উচ্চ পরিমাণে রয়েছে। তাছাড়া স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।
উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম বকুল জানান, তিনি প্রায় তিন বিঘা জমিতে বগুড়া থেকে চারা সংগ্রহ করে গড়ে তুলেছেন ক্যাপসিকাম বাগান। ইতিমধ্যে ক্যাপসিকাম তোলা শুরু হয়েছে। এখানে দুই জাতের ক্যাপসিকাম চাষ করা হয়েছে। এগুলো হলো উচ্চফলনশীল ইন্দিরা ও টাইগার। তিনি আশা করছেন, এখান থেকে ১২-১৪ টন ফলন পাবেন।
তিনি আরো বলেন, উৎপাদিত সবজির ভালো দাম পাওয়া গেলে এ এলাকার কৃষক ক্যাপসিকাম চাষে আরো বেশি আগ্রহী হবেন। ইতোমধ্যে তাকে দেখে আরো কয়েকজন কৃষক ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেছেন।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এ.এ. মাসুম বিল্লাহ জানান, ক্যাপসিকাম চাষের সম্ভাবনা রয়েছে এ উপজেলায়। এই উপজেলায় ক্যাপসিকাম চাষের জন্য মাটি ও আবহাওয়া বেশ উপযোগী। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নানাভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ক্যাপসিকাম যেভাবে চাষ করা হয়- বীজ থেকে প্রথমে চারা তৈরি করে নিতে হয়। এ জন্য বীজগুলোকে ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে আগে থেকে তৈরি করে রাখা বীজতলায় ১০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে লাইন করে বীজ বুনতে হবে। মিষ্টি মরিচ চাষের জন্য দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি ভালো। মিষ্টি মরিচ খরা ও গোড়ায় পানি জমা কোনটিই সহ্য করতে পারে না।