খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে কৃষিভিত্তিক শিল্পখাতে আন্তর্জাতিক সংস্থা-ইফাদের কাছে ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল ইফাদের অর্থায়নে বাংলাদেশের ৩৪টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের বেশিরভাগই কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। মহামারী করোনার এই সময়ে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ইফাদের আরও বেশি অর্থায়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কৃষিপ্রক্রিয়াজকরণ শিল্প এগিয়ে নিতে হলে সংস্থাটির বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ কারণে দেশে এখন আর খাদ্য সঙ্কট নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন ভাল অবস্থায় রয়েছে।
বুধবার ইফাদের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. অর্নুদ হেমেলার্সের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ওই সময় ইফাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মিজ ফাতিমা ইয়াসমিন অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ভার্চুয়ালি যুক্ত হউন অর্থমন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও। বৈঠকে দু’পক্ষের মধ্যে একটি সফল আলোচনা হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ইফাদের বিনিয়োগের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ১১ দশমিক ৭ মিলিয়ন পরিবার উপকৃত হয়েছে। ৩৪টি প্রকল্পের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৭টি প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে চলমান সাতটি প্রকল্প কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ইফাদের কান্ট্রি স্ট্রেটিজিক অপরচিউনিটি প্রোগ্রামের (সিওএসওপি) আওতায় চলমান পাঁচ বছর মেয়াদী প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে। এরপর সিওএসওপি’র আওতায় ২০২৩-২০২৮ বছর মেয়াদী নতুন প্রকল্পের মেয়াদ শুরু হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জেন্ডার, পুষ্টি, জলবায়ু চ্যালেঞ্জ ও আদিবাসী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ইফাদের সহযোগীতা আরও সম্প্রসারিত করবে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে গত এক দশক ধরে দেশে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও ভালো অবস্থানে আছে। চলমান এই সঙ্কটময় পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করতে পেরে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের যুগোপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ ঘোষনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন। ওই সময় অর্থমন্ত্রী বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন বিশেষ করে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবা খাতের উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গ্রামীন অর্থনীতি তথা কৃষি, গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সমূহে ইফাদের অনুদান সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। সেই সঙ্গে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, ফুড প্রসেসিং, ভবিষ্যতে জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য জিইএফ, জিসিএফ এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী তহবিল হতে বাংলাদেশের অর্থায়ন প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে বাস্তবমুখী কর্মসূচী গ্রহণের জন্য ইফাদকে অনুরোধ করেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পাঁচ বছর মেয়াদী ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, এসডিজি এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ সমূহ মোকাবেলার লক্ষ্যে বাংলাদেশে ইফাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি শক্তিশালী করতে হবে। ইতোমধ্যে ইফাদের বাংলাদেশের চাঁদার পরিমাণ বৃদ্ধি করে ০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। পৃথিবীতে যখন এক বিলিয়ন মানুষ ছিল তখনও পৃথিবীর বহু মানুষ অভুক্ত থাকতো, কিন্তু এখন সাড়ে সাত বিলিয়নের উপরের মানুষের পৃথিবীতেও মানুষ অভূক্ত থাকেনা বললেই চলে। এক্ষেত্রে ইফাদ এবং এফএও মতো মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার অবদান রয়েছে।
সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মিজ্ ফাতিমা ইয়াসমিন নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর-কে বাংলাদেশে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ইফাদ জাতিসংঘের অন্যতম বিশেষায়িত সংস্থা। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের সদস্যপদ প্রাপ্তির পর থেকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক তথা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলাদেশ এর সদস্য পদ প্রাপ্তির পর থেকে মোট ক্রমপুঞ্জিত বিনিয়োগের পরিমাণ ২.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইফাদের নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. অর্নুদ হেমেলার্স বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতাও প্রয়োজন। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, জেন্ডার, পুষ্টি, আদিবাসী জনগণের জীবন মানের উন্নয়নে ইফাদ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।