উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরশহরের ঝিকিড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডেপুটেশনকৃত প্রাক- প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক শাহ আলম এর বিরুদ্ধে মাইকিং করে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করা, কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত বিভিন্ন ফি আদায় করে আত্মসাৎ করা, অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষক গ্রুপিং ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিক্ষার্থীদের ৮০ জন অভিভাবক স্বাক্ষরিত ও এলাকাবাসীর পক্ষে রেশমা খাতুন নামের এক সচেতন নাগরিক।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ওই শিক্ষকের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পত্রটি তদন্ত করার জন্য পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাহাব উদ্দিন।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, উল্লাপাড়া ঝিকিড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডেপুটেশনকৃত (সংযুক্তি) প্রাক-প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক শাহ আলম শিক্ষক আন্দোলনের সময় বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে মাইকিং করে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করে দেন। ক্লাশ পার্টির নামে তিনি শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ৮৮ হাজার ৭শত টাকা চাঁদা গ্রহন করেন। ৫ম শ্রেণীর বিদায় অনুষ্ঠানের নামে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং প্রতি শিক্ষকের নিকট থেকে ১ হাজার টাকা করে উত্তোলন করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ আছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তিনি শিক্ষক আন্দোলনের নাম করে উপজেলার সকল বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে কোন ধরনের হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও দুর্নীতি, অনিয়ম, অসদাচরণ, শিক্ষক গ্রুপিং ও চাঁদাবাজির নানা অভিযোগ রয়েছে তার নামে।
তিনি বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে শিক্ষক হিসেবে এসে শিক্ষকদের সাথে অসদাচারণ, গ্রুপিং, সিনিয়র শিক্ষকদের অসম্মান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে সর্বদা অসৌজন্য আচরণে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বিদ্যালয়ে। তিনি প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষক হলেও কখনো পাক- প্রাথমিকের ক্লাস নেন না। এ বিষয়ে বললে, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণ করে থাকেন। মাইকিং করে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করার সময় প্রধান শিক্ষক বাঁধা দিলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে এই শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হাসিনা খাতুনের অসুস্থজনিত কারণে (তিনি) শাহ আলম ডেপুটেশনে এই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। কিন্তু উক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি তার নিজ বাহুবলে এই বিদ্যালয়ে চাকুরী থাকা পর্যন্ত থাকবেন বলে সবাইকে গলা বাজিয়ে বলে বেড়াচ্ছেন। কতৃপক্ষের নিকট এই বদমেজাজি শিক্ষকের দ্রুত বিচার প্রার্থনা করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
এব্যাপারে ছাত্র অভিভাবক কেয়া, ছালমা ও সুরাইয়া পারভীন জানান, মাইকিং করে বাচ্চাদের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করেছিলেন শাহ আলম স্যার। এছাড়াও ক্লাশ পার্টির নামে একশো টাকা ও বিদায় অনুষ্ঠানে ৩ শত টাকা করে চাঁদা নিয়েছেন তিনি।
অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক শাহ আলম জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়। এটা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি উল্লাপাড়া শাখার সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম তোতা বলেন, কথিত শিক্ষক শাহ আলম এর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অনিয়মের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
উল্লাপাড়ার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক কে লাঞ্চিত করা সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে।
এব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাহাব উদ্দিন জানান, জেলা প্রশাসকের কাছে করা অভিযোগপত্রটি তদন্তের জন্য পেয়েছি। বিষয়টি খুব শীঘ্রই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।